আমাদের বৈশিষ্ট্য

আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ছোট্ট মাদ্রাসাটি ৪র্থ বৎসরে পা দিয়েছে। এ বছর আমাদের সিনিয়র ব্যাচের ছাত্ররা মাদ্রাসার নিসাব অনুযায়ী কাফিয়া জামাতে (৪র্থ বর্ষে) এবং স্কুল কারিকুলাম অনুযায়ী নবম শ্রেনিতে উঠেছে । মাদ্রাসার পড়াশুনার পাশাপাশি জেনারেল লাইনের পড়াশুনাও এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ভর্তি চলছে আমাদের এ মাদ্রাসায়। আপনিও চাইলে আপনার সন্তানকে ভর্তি করাতে পারেন যদি সে হিফজ কমপ্লিট করে থাকে বা নূরানী বা প্রাইমারী উত্তীর্ণ হয়ে থাকে।

আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মাদ্রাসায় মোট ৩৭ জন ছাত্রের জন্য ১০ জন শিক্ষক। পাঁচজন আরবী সাবজেক্টগুলোর জন্য, পাঁচজন জেনারেল লাইনের সাবজেক্টগুলোর জন্য।

সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা সবসময়ই রয়েছে শিক্ষকগণের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ। ফলে কোন ছাত্রের জন্য অমনোযোগী থাকা, বা পড়াশুনায় পিছিয়ে থাকা কঠিন। আমাদের ছাত্ররা মাদ্রাসার পড়াশুনার পাশাপাশি জেনারেল লাইনের কারিকুলাম অনুযায়ী ৫ম,৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম,৯ম শ্রেণিতে পড়ছে। এখানে রয়েছে পর্যায়ক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ। রয়েছে কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুবিধা। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের ভর্তি কার্যক্রম চলতে থাকে। মাদ্রাসার নিসাব অনুযায়ী প্রথম চার বর্ষে ভর্তি চলছে।

আপনি যদি চান আপনার সন্তানকে যুগসচেতন একজন দাঈ আলিম হিসেবে গড়ে তুলবেন, আমাদের সম্পূর্ণ আবাসিক এ প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করতে পারেন। আমাদের চিন্তা হলো বাচ্চাদের মুত্তাকী আলিমে দ্বীন ও দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তারা যেন জাগতিক বিষয়গুলোতেও সচেতন ও যোগ্য হয়।

এ জন্য আমাদের রয়েছে দারসে নেজামী ও মাদানী নিসাবের সুন্দর সমন্বয়ে আধূনিক পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণে ফন-ভিত্তিক যোগ্যতা তৈরির প্রয়াস। সাথে যুগ চাহিদা বিবেচনায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের আন্তর্জাতিক মানের পাঠদান।

নিয়মিত শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ উস্তাদগণের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কার্যকর তালীম ও তারবিয়্যাহর প্রতি জোর দেয়া হয়।

শুরুর কথা

তখন সারা পৃথিবীতে চলছে করোনার তাণ্ডব। মানুষ কিছু দিনের জন্য হয়ে পড়ে সাময়িক গৃহবন্দী। সে সময়ে আমাদের কিছু দ্বীনি ভাই ফরজ ইলম শেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই করোনার তাণ্ডবের শুরুতেই লকডাউনের ভেতরেই শুরু হয় আমাদের অনলাইন ফরজে আইন ইলমের দারস।

পরবর্তীতে করোনার তাণ্ডব কমে হলে যখন লকডাউন শিথিল হলো, আমাদের ভাইদের আব্দারে অফলাইনেই আমাদের দারস শুরু হয়। আমার চেম্বারেই সন্ধ্যার পরে তা চলতে থাকে। এর মাঝে কিছু ভাইয়ের অল্পস্বল্প কুরআন বুঝার একান্ত আগ্রহে তাদের মহব্বতের আব্দারে কিছু নাহুসারফ, কিছু ‘এসো আরবী শিখি’র দারসও শুরু করতে হয়। স্মরণীয় সেই তারিখটিই ৮ই অক্টোবর। ফলে সেদিন থেকে আমার চেম্বারটিই হয়ে পড়ে মিনি দারসগাহ। আমাদের মাদ্রাসার অনানুষ্ঠানিক গোড়াপত্তনও সে দিনটিতেই।

আমাদের এ দারস-তাদরীস ফরজ ইলম শিক্ষা কোর্সকে কেন্দ্র করে নিয়মিত চলতে থাকে। পরবর্তীতে আমাদের বাচ্চাদের ইলম শেখার প্রাথমিক ধাপগুলোকে সামনে রেখে ২০২৩ এর প্রারম্ভে শ্রদ্ধাভাজন দ্বীনি ভাই ক্যাপ্টেন নিজাম উদ্দীন ও স্নেহের ডাঃ আব্দুল আলীমের পরামর্শ ও সহযোগিতায় উস্তাদে মুহতারম মুফতি কিফায়াতুল্লাহ সাহেব হুজুর দামাত বারাকাতুহম এর দোয়া ও পরামর্শ নিয়ে শুরু করি আমাদের মাদ্রাসার দ্বিতীয় ধাপ ‘আবাসিক দারস-তাদরীস’। ১৩ জন ছাত্র নিয়ে শুরু হয় ব্যাচটি। সেই পিচ্চিরাই পর্যায়ক্রমে এখন ৪র্থ বর্ষে। আল্লাহ পাক তাদের ইলম, আমল, আখলাক ও দাওয়াতের পথে কবুল করুন।

Scroll to Top